অনলাইন ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬
ঈদুল আজহার ছুটি ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে সাময়িক এক স্বস্তিদায়ক উন্নতি দেখা দিয়েছিল। বৃষ্টিতে সড়কের ধুলাবালি ধুয়ে যাওয়া, উৎসবের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কম থাকা এবং মেগা প্রজেক্টসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় নগরবাসী কিছুটা পরিষ্কার বাতাস উপভোগ করতে পেরেছিলেন। তবে বৃষ্টির প্রভাব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই সাময়িক স্বস্তিও ফিকে হতে শুরু করেছে; ঢাকার বাতাসে আবারও দ্রুত বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থার (IQAir) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৯৪। এই স্কোর অনুযায়ী বিশ্বের দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকায় মেগাসিটি ঢাকার অবস্থান বর্তমানে ১২তম। বায়ুর এই মানকে পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘মাঝারি’ বা সহনীয় পর্যায় বলে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আজকের বৈশ্বিক দূষণের এ তালিকায় ২৬৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষ বা প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর, যার বায়ুমান বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসার স্কোর ২১৪। এছাড়া ১৫৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৪৪। তালিকায় ১৩৭ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে চিলির সান্তিয়াগো শহর।
বায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত এবং তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—সেটি একিউআই সূচকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। এর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে:
৫০ থেকে ১০০ স্কোর: বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বা সহনীয় বলে বিবেচনা করা হয়।
১০১ থেকে ১৫০ স্কোর: ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর (শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টের রোগী) জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে ভারী পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৫১ থেকে ২০০ স্কোর: বাতাস সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১ থেকে ৩০০ স্কোর: বায়ুর মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
৩০১ এর বেশি স্কোর: বাতাস ‘বিপজ্জনক’ বা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক ও তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদে রাজধানীতে আকস্মিক যানবাহন ও নির্মাণকাজ কমে যাওয়া এবং অধিক পরিমাণে বৃষ্টি হওয়াতে বায়ুদূষণের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে কমে এসেছিলো। টানা বৃষ্টিতে ধুলাবালি বাতাসে উড়তে পারেনি, যার ফলে আজ ঢাকার বাতাস সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
তবে আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ার সাথে সাথে এবং মহানগরে যানবাহন ও নির্মাণকাজ পূর্ণ স্বাভাবিক গতিতে ফিরলে দূষণের মাত্রাও আবার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করবে। যদিও সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে ঢাকার দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং বড় বড় নির্মাণকাজের ধুলাবালি ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
সুতরাং, ঢাকার বাতাস আপাতত সহনীয় বা 'মাঝারি' পর্যায়ে থাকলেও দূষণের ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যায়নি। বিশেষ করে যাদের ক্রনিক অ্যাজমা, অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসতর্কতা মেনে চলাই শ্রেয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |